বিশ্বাসের বিষধর



একজন একাকী নারী। প্রকৃতির প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁকে ভিন্ন রকম সঙ্গীর সন্ধান দিয়েছিল। তিনি পুষতেন এক বিশাল অজগর সাপ। সাপটি ছিল প্রায় চার মিটার লম্বা, অগণিত পেশীর গিঁট বাঁধা শক্তিশালী দেহ। তবে এই প্রাণীটির সাথে নারীর সম্পর্ক ছিল একদমই আলাদা। সাপটি যেন তাঁর একান্ত আপন, তার চাহনিতে ছিল মায়ার ছাপ। নারীটির জন্য অজগর ছিল শুধু এক পোষা প্রাণী নয়, ছিল প্রিয় সঙ্গী। প্রতিদিন তারা একসাথে সময় কাটাতো, সাপটি নারীটির বিছানায় শুয়ে থাকতো, মাঝে মাঝে আদরের স্পর্শে সাপটিও যেন তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলতো। এই সম্পর্ক যেন প্রকৃতির এক অপার্থিব বন্ধন। তবে একদিন হঠাৎ করেই অজগরের আচরণ বদলে গেল। প্রাণীটি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিল। দিন গড়াল, সপ্তাহ পার হলো। সাপটি কোনো কিছুতেই মুখ দিত না। নারীর মনে গভীর দুশ্চিন্তার মেঘ জমল। এত ভালোবাসার প্রাণীটির এমন অবস্থায় তিনি শঙ্কিত হয়ে উঠলেন। শেষমেশ তিনি সাপটিকে একজন প্রাণীবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেন। ডাক্তার মনোযোগ দিয়ে সাপের সমস্যা শোনার পর বেশ কিছু প্রশ্ন করলেন।

সাপটি কি আপনার সাথে ঘুমায়?”
হ্যাঁ,” নারীটি জবাব দিলেন।
ঘুমানোর সময় কি সাপটি আস্তে আস্তে আপনার শরীরের সাথে লেপ্টে যায়?”
হ্যাঁ, প্রায়ই এমন হয়।”

ডাক্তার কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। তারপর বললেন, “ম্যাডাম, সাপটি আপনাকে ভালোবাসে না। সে আপনাকে পরিমাপ করছে। সে জানে তার শিকার আপনি। আপনার শরীর মেপে সে নিশ্চিত হচ্ছে যে আপনাকে গিলে ফেলার প্রস্তুতি নিতে হবে কতটা। আর এই জন্যই সে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে—পেট খালি রাখতে, যাতে আপনাকে সহজে হজম করতে পারে।”

নারীর শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। তিনি যেন স্তব্ধ হয়ে গেলেন। এতদিন ধরে যে প্রাণীটিকে তিনি ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক ভেবেছিলেন, সেটাই ছিল তাঁর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষারত শিকারি।

গল্পের শিক্ষা

জীবনে এমন অনেক মানুষ থাকে, যারা ভালোবাসার মুখোশ পরে থাকে। আপনি ভাবেন, তারা আপনাকে ভালোবাসে, আপনার মঙ্গল চায়। কিন্তু আসলে তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, আপনাকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়ে। ঠিক যেমন এই অজগরটি। তাই জীবনে সাবধান হোন, কাকে আপন মনে করছেন, কার সাথে মনের ঘনিষ্ঠতা ভাগ করছেন। সত্যিই, সমাজে সাপের অভাব নেই। তবে তাদের চেনা আর দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। মানুষ চিনতে ভুল করলে জীবনে বড় মাশুল দিতে হয় একদিন।